Skip to main content

কৃষি ব্যাংকের ৫ হাজার কোটি টাকার খেলাপী ঋণের হিসাব নেই।




কৃষি ব্যাংকের ঋণ ও অগ্রিমের ক্ষেত্রে ভয়াবহ গড়মিলের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণের বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়া ছাড়াও খেলাপি ঋণের তথ্য লুকিয়েছে ব্যাংকটি। ৩ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা খেলাপি দাবি করলেও কৃষি ব্যাংকের প্রকৃত খেলাপি দ্বিগুণেরও বেশি। ঋণ পুনঃতফসিলে অনিয়ম, সিআইবিতে ঋণের তথ্য না দেয়াসহ নানা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে ব্যাংকটি। শীর্ষ ব্যবস্থাপকদের দুর্বলতার কারণে শাখা পর্যায় থেকে চাহিদা অনুযায়ী তথ্য পায়নি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল।


জানা গেছে, কৃষি ব্যাংক ৩ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের তথ্য দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের পরির্দশনে দেখা গেছে, ব্যাংকটির প্রকৃত খেলাপি সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা। ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রেও অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রাহকের সাথে আলোচনা ছাড়াই ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।


ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সলিউশন-সিবিএস’র তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৮ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। ৫ হাজার ৬৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন করেছে কৃষি ব্যাংক।


শুধু তাই নয়, কৃষি ব্যাংকের মোট ঋণের সংখ্যা ৩৩ লাখ ৫৪ হাজার ৬৭৪টি। তবে সিআইবিতে তথ্য আছে, ১৬ লাখ ১৫ হাজার ৬২৮টি। বাকি ১৭ লাখ ৩৯ হাজার ৪৬টি ঋণের কোনো তথ্য নেই সিআইবিএতে। ব্যাংকের কর্মী ঋণেও অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিদর্শন প্রতিবেদন বলছে, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অদক্ষতায় কৃষি ব্যাংক অভ্যন্তরীণ সুশাসন দুর্বল হয়েছে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের চরিত্র বদলের পর দুর্বল হয়েছে ব্যাংকটির প্রতিটি সূচক। এছাড়া ঋণের তথ্য গোপন করা বড় ধরনের অপরাধ। এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শও তাদের।


বেসরকারি ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, বাণিজ্যিক ঋণ দেয়ার সময় কিছু খেলাপি হওয়ার শঙ্কা থাকেই। সেটি সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সহনীয়। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান মূলধনের ঘাটতি দেখায় সেইক্ষেত্রে সে ব্যবসার জন্য উপযুক্ত কিনা চিন্তা করতে হবে।


বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বিষয়টি নিয়ে বলেন, বিভ্রান্তি হলে সেটি ২/৩ বা ৫ শতাংশ হতে পারে। তবে সেটি তো দ্বিগুন হতে পারে না। তত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা কিংবা সরকার কিছুই বলছে না তাদেরকে। ফলে দিন দিন অবস্থা খারাপ হচ্ছে। এসব অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে না আনলে ব্যাংকিং সিস্টেমই ভেঙে পড়বে।


তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিক যেসব ঋণ সেগুলোর তথ্য সিআইবিতে কেন যাবে না? এটি তো অবশ্যই যেতে হবে। কিন্তু এসব তথ্য না দিয়েও কীভাবে তারা পার পায় সেটিই বুঝি না।


এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন তথ্য গোপনের বিষয়ে বলেন, এসব তথ্য যত বেশি দেবে স্বচ্ছতা তত বেশি হবে। ব্যাংক কোনোকিছু গোপন করতে পারবে না। গোপন করার বিধানও নেই। তথ্য গোপন করা অগ্রহণযোগ্য এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।


তবে কৃষি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ ও খেলাপি সংক্রান্ত কোনো অনিয়ম করেননি তারা। জনবল সঙ্কটের কারণে সঠিক সময়ে সিআইবিতে তথ্য দেয়া সম্ভব হয়নি।


ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান বলেন, কৃষি ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা অনেক বেশি। সে তুলনায় জনবল সঙ্কট রয়েছে।ফলে সঠিক সময়ে সবজায়গায় তথ্যগুলো দেয়া সম্ভব হয়নি। এজন্য এই ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো হয়েছে।

সূত্রঃ যমুনা টিভি

Comments

Popular posts from this blog

ডাচ বাংলা ব্যাংকের ৩৯ গ্রাহকের দেড় কোটি টাকা উধাও!

প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ প্রক্রিয়ায় ৩৯ জন গ্রাহকের মোট এক কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্টসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুদকের রংপুর জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। সংস্থাটির একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মামলার আসামিরা হলেন- মেসার্স শিরিন ট্রেডার্সের মালিক ও ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট মোছা. জোবেদা বেগম, তার স্বামী মো. আবুল কালাম আজাদ, তার মেয়ের জামাই এ.বি.এম আতাউর রহমান, এজেন্ট ব্যাংকের কর্মচারী মো. শাহজাহান ও জাহাঙ্গীর আলম।   এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন অপকৌশল ও অসৎ উদ্দেশ্যে ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের আড়ালে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ প্রক্রিয়ায় ৩৯ জন গ্রাহকের মোট এক কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। মোছা. জোবেদা বেগম ও তার স্বামী ২০১৮ সালের অক্টোবরে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে এফডিআর খুলে...

সোনালী ব্যাংককে এক কোটি রুপি জরিমানা করল ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  লেনদেনের বিধি ও নির্দেশনা লঙ্ঘন করায় বাংলাদেশের সোনালী ব্যাংককে ৯৬ লাখ ৪০ হাজার রুপি জরিমানা করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। মুম্বাইভিত্তিক সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়াকেও একই অভিযোগে ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। মুম্বাইয়ের ব্যাংকটির বিরুদ্ধে ঋণসংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়া, অগ্রিম লেনদেনে ত্রুটি এবং গ্রাহক সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর সোনালী ব্যাংককের বিরুদ্ধে অসংগতিপূর্ণ লেনদেনে সতর্কতা অবলম্বন করার ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকটির বিরুদ্ধে সুইফট সম্পর্কিত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগও তোলা হয়েছে।  ২০২২ সালের ৩১ মার্চ থেকে চলমান একটি পর্যবেক্ষণের ফল হিসেবে এই জরিমানা করেছে আরবিআই। পর্যবেক্ষণে বেশ কিছু অসংগতিপূর্ণ আচরণ ধরা পড়ে। এ কারণে ব্যাংক দুটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।  সরকারের ভর্তুকির বিপরীতে একটি প্রতিষ্ঠানকে ঋণের অনুমোদন দিয়েছিল মুম্বাইভিত্তিক সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। এ ছাড়া অননুমোদিত ই–লেনদেনের সঙ্গেও যুক্ত ছিল ব্যাংকটি। ...

এস আলমের কাজের মেয়ের হিসাবে কোটি কোট টাকা?

  বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলমের কাজের মেয়েও কোটিপতি। শীর্ষ ব্যবসায়ী এস আলমের গৃহকর্মী মর্জিনা আক্তারের নামে ৫ কোটি টাকার সম্পত্তি ছাড়াও মিলেছে বিপুল পরিমাণ সম্পদের খোঁজ। পেশায় গৃহকর্মী হলেও মর্জিনার নামে দু’টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে আড়াই কোটি টাকা। এছাড়া মর্জিনার নামে কয়েকটি ব্যাংকে ২২টি এফডিআর’এ থাকা এক কোটি টাকা জমা রাখার সন্ধান পাওয়া গেছে। ইসলামী ব্যাংকে চাকরি দেখিয়ে নিজ নামে এ সম্পদ গড়েছে মর্জিনা আক্তার ও তার স্বামী সাদ্দাম হোসেন।  বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য। এতে দেখা যায়, চট্টগ্রামে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের প্রবর্তক মোড় শাখায় মর্জিনা আক্তারের নামে গত ২৭ আগস্ট পর্যন্ত এক কোটি ৮৪ লাখ ১৬ হাজার ৭২১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নগদ ও চেকের মাধ্যমে এসব অর্থ জমা হলেও কিছুদিনের মধ্যে সেই অর্থ উত্তোলন করা হয়। কোটি কোটি টাকার লেনদেন হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মর্জিনা আক্তারের ব্যাংক হিসাবে এখন জমা আছে মাত্র ৬০৫ টাকা। অন্যদ...