গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ, ইসলামী ব্যাংক কর্মচারীর ১১ বছরের কারাদণ্ড
জালিয়াতি মাধ্যমে গ্রাহকের সোয়া ৮ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মচারীকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সাজাপ্রাপ্ত ওই কর্মচারীর নাম মো. আশরাফুল আলম। তিনি চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে মেসেঞ্জার কাম গার্ড পদে কর্মরত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এ রায় ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান। রায়ের সময় আসামি মো. আশরাফুল আলম পলাতক ছিলেন। এই মামলার অপর আসামি শেখ আহমদকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের সময় শেখ আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের পিপি রেজাউল করিম রনি বলেন, সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি মো. আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১১ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে , এক যুগ আগে ২০১৪ সালের মে মাসে ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের লোহাগাড়া শাখায় আসেন আশরাফুল আলম। এরপর ২০১৪ সালের ২০ জুলাই ব্যাংকের এক গ্রাহক নিজ হিসাব থেকে আড়াই লাখ টাকা উত্তোলন করতে আশরাফুলকে চেক জমা দেন। কিন্তু তাকে জানানো হয়, হিসেবে পর্যাপ্ত টাকা নেই। পরে সেই চেক শেখ আহমদ নামে অন্য এক গ্রাহকের হিসাবে জমা হয়েছে এবং সেই টাকা তুলেও নেওয়া হয়েছে।
এরপর আশরাফুলসহ তিনজন দামি মোবাইল ফোন কিনতে সন্দেহ হয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল আলম টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি আরও জানান, এর আগে ব্যাংকের গ্রাহক জামাল উদ্দিনের এক লাখ ২৫ হাজার টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে মিনু আক্তার নামের আরেক গ্রাহকের হিসাবে স্থানান্তর করেন। আবার পরে মিনু আক্তারের চেকবই থেকে চেক চুরি করে সেই টাকাও তুলে নেয়। এভাবে বিভিন্ন গ্রাহকের হিসাব থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা তুলে নিয়ে আরো ৭ লাখ টাকা। যা অন্য একটি ব্যাংকে থাকা তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা করেন।
পরে শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ঈসা বাদি হয়ে তাকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলার ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার রায় দেওয়া হয়।
সূত্র: দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিন। ১০/০৪/২০২৬
No comments:
Post a Comment