Skip to main content

পরিচালকের পরকীয়ায় সিটি ব্যাংকে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা।


২০০৭ সালে সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব নেন এমএ হাশেমের বড় ছেলে আজিজ আল কায়সার। মাঝে বিরতি দিয়ে বর্তমানেও তিনি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাবাসসুম কায়সার আজিজ আল কায়সারের বিরোধিতা করছেন। দুইজনের রেষারেষিতে বোর্ডের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। অনেক প্রস্তাবের অনুমোদন আটকে আছে। এ নিয়ে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। অনেক ক্ষেত্রে তাবাসসুম কায়সার নির্বাহী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে কর্মকাণ্ড আটকে দিচ্ছেন। এতে আমানতকারী, শেয়ারহোল্ডারসহ সব ধরনের গ্রাহকের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


 প্রচণ্ড ভালোবেসে স্ত্রী তাবাসসুম কায়সারকে পারিবারিক ও নিজের অর্জিত সম্পদের মালিকানা দিয়েছিলেন সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার। সিটি ব্যাংকসহ প্রায় দেড় ডজন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও বসিয়েছেন তাকে; কিন্তু এক ভিনদেশির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে স্বামীর প্রেম, সন্তানের ভালোবাসা সবই পায়ে ঠেলেছেন তাবাসসুম। বিপুল সম্পদ নিজের দখলে নিয়ে আজিজ আল কায়সারের বেশিরভাগ কাজে বিরোধিতা করছেন তিনি। এতে সংসার যেমন ভাঙনের পথে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে সিটি ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড। এই সুযোগে একটি গোষ্ঠী ব্যাংকটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। জানা গেছে, তাবাসসুম কায়সার একজন সংসদ সদস্য আত্মীয়ের প্রভাবে এই বেপরোয়া আচরণ করছেন, যিনি গত কয়েক বছর ধরে সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এক দিনেই এ পর্যায়ে আসেননি


তাবাসসুম কায়সার। ধাপে ধাপে পরিকল্পিতভাবে তিনি এগিয়েছেন। পারটেক্স গ্রুপের ১৬টি প্রতিষ্ঠানে নিজের শেয়ার পাকাপোক্ত করার পর তিনি স্বামীর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। যদিও এর মধ্যে তিনি তিন পুত্র সন্তানের মা হয়েছেন। সিটি ব্যাংকের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারটেক্স গ্রুপের ১২ প্রতিষ্ঠানে তার নামে ১০ শতাংশ করে শেয়ার রয়েছে। তিনটি প্রতিষ্ঠানে রয়েছে ২০ শতাংশ শেয়ার। আর একটি প্রতিষ্ঠানে ৫০ শতাংশ শেয়ার তাবাসসুম কায়সারের। এর মধ্যে পারটেক্স এগ্রোর চেয়ারম্যান তাবাসসুম কায়সার। আর ট্রিপল অ্যাপারেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আর সিটি ব্যাংকে তার শেয়ার ২ দশমিক ১০ শতাংশ। তিনি সিটি ব্যাংকের অডিট কমিটি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য। ব্যাংক থেকে তার নামে রয়েছে একটি ক্রেডিট কার্ড, যেখানে তিনি স্থানীয় ও বৈদেশিক মুদ্রায় লাখ লাখ টাকা খরচ করেছেন। এই বিপুল সম্পদের মালিকানা নিয়ে তিনি এখন বিচ্ছেদের পথে। তবে আজিজ আল কায়সারকে তিনি জানিয়েছেন বিচ্ছেদের জন্যও দিতে হবে মোটা অংকের নজরানা।


জানা গেছে, ওই সংসদ সদস্যের প্ররোচনায় সম্প্রতি তাবাসসুম কায়সার ময়না আদালতে আজিজ আল কায়সারের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেছেন। আদালত তিনটি মামলাকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাকে এজাহার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ময়নার করা এসব মামলায় বর্তমানে জামিনে আছেন আজিজ আল কায়সার টিটো। জানা গেছে, মূলত আজিজ আল কায়সারকে সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরাতে কিছু বানোয়াট অভিযোগ প্রস্তুত করে হয়রানিমূলক মামলার ফাঁদ পাতা হয়েছে। সাজানো এসব মামলার নেপথ্যে আছেন তাবাসসুম কায়সারের দুলাভাই সম্পর্কের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য। সম্পর্কে তিনি ময়নার বড় বোনের স্বামী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে নিজের নাম লেখাতে নানাভাবে চেষ্টা করছেন।


সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক মাস ধরেই ময়নার সঙ্গে আজিজ আল কায়সারের দাম্পত্য কলহ চলছে। তবে নিতান্ত ব্যক্তিগত বিষয়টি এতদিন গোপন থাকলেও মামলার মধ্য দিয়ে ঘটনা প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। ভারতীয় এক যুবকের সঙ্গে আজিজ আল কায়সার টিটোর স্ত্রী তাবাসসুম কায়সার ময়নার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে তাদের দাম্পত্য কলহ চরম আকার ধারণ করে। মায়ের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পেয়ে নিজের মাকে ছেড়ে বাবার সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই দম্পতির তিন পুত্র সন্তান এবং তারা মায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বাবার সঙ্গে বসবাস করছেন।


হাসেম পরিবারের সদস্যরা বলছেন, প্রচণ্ড ভালোবাসা থেকে স্ত্রীকে কোম্পানির মালিকানায় নিয়ে আসেন আজিজ আল কায়সার। সিটি ব্যাংক ছাড়াও গ্রুপের কয়েকটি কোম্পানিতে পরিচালক পদে আছেন ময়না। এ ছাড়া স্ত্রীকে নিয়ে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন আজিজ আল কায়সার। কিনে দিয়েছেন শতকোটি টাকার অলংকার। দীর্ঘ ২৮ বছরের সংসার তাদের।


তথ্যসূত্রঃ দৈনিক কালবেলা, ২০/১/২৩,শেষ পৃষ্ঠা।



Comments

Popular posts from this blog

ডাচ বাংলা ব্যাংকের ৩৯ গ্রাহকের দেড় কোটি টাকা উধাও!

প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ প্রক্রিয়ায় ৩৯ জন গ্রাহকের মোট এক কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্টসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুদকের রংপুর জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। সংস্থাটির একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মামলার আসামিরা হলেন- মেসার্স শিরিন ট্রেডার্সের মালিক ও ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট মোছা. জোবেদা বেগম, তার স্বামী মো. আবুল কালাম আজাদ, তার মেয়ের জামাই এ.বি.এম আতাউর রহমান, এজেন্ট ব্যাংকের কর্মচারী মো. শাহজাহান ও জাহাঙ্গীর আলম।   এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন অপকৌশল ও অসৎ উদ্দেশ্যে ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের আড়ালে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ প্রক্রিয়ায় ৩৯ জন গ্রাহকের মোট এক কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। মোছা. জোবেদা বেগম ও তার স্বামী ২০১৮ সালের অক্টোবরে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে এফডিআর খুলে...

সোনালী ব্যাংককে এক কোটি রুপি জরিমানা করল ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  লেনদেনের বিধি ও নির্দেশনা লঙ্ঘন করায় বাংলাদেশের সোনালী ব্যাংককে ৯৬ লাখ ৪০ হাজার রুপি জরিমানা করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। মুম্বাইভিত্তিক সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়াকেও একই অভিযোগে ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। মুম্বাইয়ের ব্যাংকটির বিরুদ্ধে ঋণসংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়া, অগ্রিম লেনদেনে ত্রুটি এবং গ্রাহক সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর সোনালী ব্যাংককের বিরুদ্ধে অসংগতিপূর্ণ লেনদেনে সতর্কতা অবলম্বন করার ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকটির বিরুদ্ধে সুইফট সম্পর্কিত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগও তোলা হয়েছে।  ২০২২ সালের ৩১ মার্চ থেকে চলমান একটি পর্যবেক্ষণের ফল হিসেবে এই জরিমানা করেছে আরবিআই। পর্যবেক্ষণে বেশ কিছু অসংগতিপূর্ণ আচরণ ধরা পড়ে। এ কারণে ব্যাংক দুটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।  সরকারের ভর্তুকির বিপরীতে একটি প্রতিষ্ঠানকে ঋণের অনুমোদন দিয়েছিল মুম্বাইভিত্তিক সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। এ ছাড়া অননুমোদিত ই–লেনদেনের সঙ্গেও যুক্ত ছিল ব্যাংকটি। ...

এস আলমের কাজের মেয়ের হিসাবে কোটি কোট টাকা?

  বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলমের কাজের মেয়েও কোটিপতি। শীর্ষ ব্যবসায়ী এস আলমের গৃহকর্মী মর্জিনা আক্তারের নামে ৫ কোটি টাকার সম্পত্তি ছাড়াও মিলেছে বিপুল পরিমাণ সম্পদের খোঁজ। পেশায় গৃহকর্মী হলেও মর্জিনার নামে দু’টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে আড়াই কোটি টাকা। এছাড়া মর্জিনার নামে কয়েকটি ব্যাংকে ২২টি এফডিআর’এ থাকা এক কোটি টাকা জমা রাখার সন্ধান পাওয়া গেছে। ইসলামী ব্যাংকে চাকরি দেখিয়ে নিজ নামে এ সম্পদ গড়েছে মর্জিনা আক্তার ও তার স্বামী সাদ্দাম হোসেন।  বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য। এতে দেখা যায়, চট্টগ্রামে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের প্রবর্তক মোড় শাখায় মর্জিনা আক্তারের নামে গত ২৭ আগস্ট পর্যন্ত এক কোটি ৮৪ লাখ ১৬ হাজার ৭২১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নগদ ও চেকের মাধ্যমে এসব অর্থ জমা হলেও কিছুদিনের মধ্যে সেই অর্থ উত্তোলন করা হয়। কোটি কোটি টাকার লেনদেন হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মর্জিনা আক্তারের ব্যাংক হিসাবে এখন জমা আছে মাত্র ৬০৫ টাকা। অন্যদ...